ঢাকা ০৫:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
যশোরে তালাক গোপন রেখে প্রবাসী স্বামীর সম্পদ আত্মসাৎ এর অভিযোগে আদালতে মামলা ঝিকরগাছায় মাদ্রাসার নামে অর্থ নিয়ে গড়ে উঠছে ব্যক্তিগত অট্টালিকা : প্রশাসনের তদন্ত কমিটি গঠন (১ম পর্ব) কুড়িগ্রাম রাজারহাটে হরিজন-রবিদাস নারীদের মাঝে শাড়ি বিতরণ করলেন এাণমন্ত্রী শার্শায় স্বর্ণের বারসহ আটক-১, মোটরসাইকেল জব্দ সৌদি আরবে গিয়ে অপহরণের শিকার ঝিকরগাছার সেতু শার্শায় পূজামন্ডপ পরিদর্শন ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সাথে উপজেলা বিএনপি নেতৃবৃন্দের শুভেচ্ছা বিনিময় কুড়িগ্রাম উলিপুরে বাচ্চু মিয়া খুনের মামলায় অভিযুক্ত আটক পলাশবাড়ী উপজেলায় জুয়ার আসরে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার-৮ গাইবান্ধার‌ সাঘাটা উপজেলায় প্যারোলে মুক্তি পেয়ে বাবার জানাজায় ছেলে পূজা দেখতে যাওয়াই কাল হলো শোভন ও দিশার, সড়ক দুর্ঘটনায় দুই ভাইবোন নিহত
বিজ্ঞাপনঃ
আমাদের নিউজপোর্টালে আপনাকে স্বাগতম...

রাজারহাটে পঙ্গু রফিকুলের কুঁড়েঘরে-ইউএনও সহায়তায় মিলল ঘর-দোকানের আশ্বাস

রতন রায় : কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি।
  • আপডেট সময় : ১০:০১:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
  • / ৪৭৭ বার পড়া হয়েছে

রতন রায় : কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি।

 

কুড়িগ্রামের রাজারহাটে আবারও মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল ইমরান। গণমাধ্যমে অসহায় প্রতিবন্ধী রফিকুল ইসলামের করুণ চিত্র দেখার পর তিনি সরেজমিনে গিয়ে পাশে দাঁড়ান। শুধু খাদ্য ও অর্থ নয়, দিলেন ঘর আর দোকানের আশ্বাস। বুধবার দুপুরে উপজেলার নাজিমখান ইউনিয়নের বাছড়া বালাটারী গ্রামে এই মানবিক স্পর্শ পায় গ্রামবাসী ।

৭৫ বছর বয়সী রফিকুল ইসলাম পঙ্গু। তার স্ত্রী আমেনা খাতুন প্রায় দৃষ্টিশক্তিহীন। দিনের পর দিন তাদের সংসার চালাতেই ভিন্নপথ ছিল না ভিক্ষাবৃত্তিই ছিল একমাত্র ভরসা। কিন্তু গত ১৭ এপ্রিল স্থানীয় ও জাতীয় কয়েকটি গণমাধ্যমে তাদের বেদনাদায়ক জীবনের খবর প্রকাশের পর নাটকীয়ভাবে বদলে যেতে থাকে চিত্র।

খবরটি নজরে আসে রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল ইমরানের। তিনি আর দেরি না করে বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুর ১ টার দিকে নিজেই উপস্থিত হন রফিকুলের ছাপরা বাড়িতে। সাথে নিয়ে যান খাদ্যসামগ্রী ও নগদ অর্থ। তবে থেমে যাননি সেখানে।

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ইউএনও স্পষ্ট ঘোষণা দেন”ভিক্ষুক পুনর্বাসন প্রকল্প’-এর আওতায় রফিকুল ইসলামের জন্য একটি ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হবে। শুধু তাই নয়, বাছড়া বাজারে তার পুরনো টং দোকানটি সংস্কার করে দেয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও করা হবে। রফিকুলের চোখেমুখে তখন অন্যরকম এক আলো।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন রাজারহাট উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান, রাজারহাট ‘পথের আলো’র সভাপতি ও উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি, স্বেচ্ছাসেবক দলের “আহ্বায়ক ” শিক্ষক, সমাজসেবক, মোঃ আনিছুর রহমান লিটন, টি আর মটরস-এর স্বত্বাধিকারী রায়হানুল ইসলাম, নাজিমখান ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য জামাল আহমেদসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সাংবাদিকরা।

স্থানীয়রা জানান, খবর প্রকাশের পর সমাজের নানা স্তরের মানুষ নিজে থেকেই রফিকুলের পাশে দাঁড়িয়েছেন। কিন্তু ইউএনও নিজে উদ্যোগ নিয়ে শুধু সহায়তা নয়, ভবিষ্যতের পথ দেখিয়ে দিয়েছেন—এটাই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

রফিকুল ইসলাম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আর ভিক্ষা করতে হবে না আল্লাহর দোহাই। এখন দোকানটা ঠিক করে দিলে বউ আর আমি দুইবেলা পেট ভরে খেতে পারব।”

ইউএনও মো. আল ইমরান বলেন, “একটি সংবাদ কাউকে কাঁদাতে পারে, আবার কাউকে জাগাতে পারে। আমরা চাই, এই পরিবার যেন সমাজের মূলস্রোতে ফিরে আসে। ঘর আর দোকান দিয়ে তাদের স্বাবলম্বী করে তোলাই লক্ষ্য।”

দীর্ঘদিন মানবেতর জীবনযাপনের পর রফিকুলের কুঁড়েঘরে আজ হাসির দিন। সংবাদ প্রকাশের মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় প্রশাসনের এমন মানবিক ভূমিকা দেখে এলাকাজুড়ে প্রশংসার স্রোত। গ্রামের মুরুব্বিরা বলছেন, “ইউএনও স্যারকে দেখে মনে হয়েছে, মানুষ মানুষের জন্য এখনও আছে।”

আরও পড়ুন..  ডিমলায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহীদ দিবস পালন উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

রাজারহাটে পঙ্গু রফিকুলের কুঁড়েঘরে-ইউএনও সহায়তায় মিলল ঘর-দোকানের আশ্বাস

আপডেট সময় : ১০:০১:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

রতন রায় : কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি।

 

কুড়িগ্রামের রাজারহাটে আবারও মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল ইমরান। গণমাধ্যমে অসহায় প্রতিবন্ধী রফিকুল ইসলামের করুণ চিত্র দেখার পর তিনি সরেজমিনে গিয়ে পাশে দাঁড়ান। শুধু খাদ্য ও অর্থ নয়, দিলেন ঘর আর দোকানের আশ্বাস। বুধবার দুপুরে উপজেলার নাজিমখান ইউনিয়নের বাছড়া বালাটারী গ্রামে এই মানবিক স্পর্শ পায় গ্রামবাসী ।

৭৫ বছর বয়সী রফিকুল ইসলাম পঙ্গু। তার স্ত্রী আমেনা খাতুন প্রায় দৃষ্টিশক্তিহীন। দিনের পর দিন তাদের সংসার চালাতেই ভিন্নপথ ছিল না ভিক্ষাবৃত্তিই ছিল একমাত্র ভরসা। কিন্তু গত ১৭ এপ্রিল স্থানীয় ও জাতীয় কয়েকটি গণমাধ্যমে তাদের বেদনাদায়ক জীবনের খবর প্রকাশের পর নাটকীয়ভাবে বদলে যেতে থাকে চিত্র।

খবরটি নজরে আসে রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল ইমরানের। তিনি আর দেরি না করে বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুর ১ টার দিকে নিজেই উপস্থিত হন রফিকুলের ছাপরা বাড়িতে। সাথে নিয়ে যান খাদ্যসামগ্রী ও নগদ অর্থ। তবে থেমে যাননি সেখানে।

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ইউএনও স্পষ্ট ঘোষণা দেন”ভিক্ষুক পুনর্বাসন প্রকল্প’-এর আওতায় রফিকুল ইসলামের জন্য একটি ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হবে। শুধু তাই নয়, বাছড়া বাজারে তার পুরনো টং দোকানটি সংস্কার করে দেয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও করা হবে। রফিকুলের চোখেমুখে তখন অন্যরকম এক আলো।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন রাজারহাট উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান, রাজারহাট ‘পথের আলো’র সভাপতি ও উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি, স্বেচ্ছাসেবক দলের “আহ্বায়ক ” শিক্ষক, সমাজসেবক, মোঃ আনিছুর রহমান লিটন, টি আর মটরস-এর স্বত্বাধিকারী রায়হানুল ইসলাম, নাজিমখান ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য জামাল আহমেদসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সাংবাদিকরা।

স্থানীয়রা জানান, খবর প্রকাশের পর সমাজের নানা স্তরের মানুষ নিজে থেকেই রফিকুলের পাশে দাঁড়িয়েছেন। কিন্তু ইউএনও নিজে উদ্যোগ নিয়ে শুধু সহায়তা নয়, ভবিষ্যতের পথ দেখিয়ে দিয়েছেন—এটাই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

রফিকুল ইসলাম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আর ভিক্ষা করতে হবে না আল্লাহর দোহাই। এখন দোকানটা ঠিক করে দিলে বউ আর আমি দুইবেলা পেট ভরে খেতে পারব।”

ইউএনও মো. আল ইমরান বলেন, “একটি সংবাদ কাউকে কাঁদাতে পারে, আবার কাউকে জাগাতে পারে। আমরা চাই, এই পরিবার যেন সমাজের মূলস্রোতে ফিরে আসে। ঘর আর দোকান দিয়ে তাদের স্বাবলম্বী করে তোলাই লক্ষ্য।”

দীর্ঘদিন মানবেতর জীবনযাপনের পর রফিকুলের কুঁড়েঘরে আজ হাসির দিন। সংবাদ প্রকাশের মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় প্রশাসনের এমন মানবিক ভূমিকা দেখে এলাকাজুড়ে প্রশংসার স্রোত। গ্রামের মুরুব্বিরা বলছেন, “ইউএনও স্যারকে দেখে মনে হয়েছে, মানুষ মানুষের জন্য এখনও আছে।”

আরও পড়ুন..  খাগড়াছড়িতে আনসার ও ভিডিপিদের ঈদের সামগ্রী বিতরণ