ঢাকা ০৫:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ঝিকরগাছা রিপোর্টার্স ক্লাবের নির্বাচনে সভাপতি বাবু, সম্পাদক শোভন, সাংগঠনিক সম্পাদক সুজন নির্বাচিত উজানের ঢলে কুড়িগ্রামে বন্যার আশঙ্কা, বাড়ছে নদীভাঙন ঈদের ছুটি শেষেও খোলেনি পানিসারা ইউনিয়ন পরিষদের তালা ঝিকরগাছায় দ্রুততম সময়ে ধর্ষকদের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন ধর্ষণের শিকার বহুমাত্রিক প্রতিবন্ধী তরুণীর সন্তান প্রসব, থানায় মামলা, অভিযুক্ত পরিবারের অস্বীকার স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে ফরিদপুরে কাঁচা কলা দেওয়ার পর ঝিকরগাছায় দেওয়া হলো কাঁচা ডিম ; প্রধান শিক্ষক জানেননা ঠিকাদার কে বীরগঞ্জে প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ড কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন সদর উপজেলার এক তরুণীর রহস্যজনক মৃত্যু ম’রহে’দ উদ্ধার করেছে পুলিশ রাজারহাটে পঙ্গু রফিকুলের কুঁড়েঘরে-ইউএনও সহায়তায় মিলল ঘর-দোকানের আশ্বাস ৫.৩ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, কাঁপলো ঢাকাসহ পুরো দেশ
বিজ্ঞাপনঃ
আমাদের নিউজপোর্টালে আপনাকে স্বাগতম...

নড়াইলে পাঁচ বছর যেতে না যেতেই অকেজো সৌর বিদ্যুৎচালিত সড়কবাতি

উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৪:১৮:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ৫০৯ বার পড়া হয়েছে

 

 

নড়াইলে বেহাল সৌর বিদ্যুৎচালিত সড়কবাতি নড়াইলের সড়কে থাকা একটি বিদ্যুৎচালিত সড়কবাতি। উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি জানান, নড়াইলের তিনটি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গ্রামীণ সড়কগুলোতে জনসাধারণের নির্বিঘ্নে চলাচলের জন্য স্থাপন করা হয় সৌর বিদ্যুৎচালিত সড়কবাতি। পাঁচ বছর যেতে না যেতেই অধিকাংশ বাতি অকেজো হয়ে পড়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয়দের। তারা জানান, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বারবার যোগাযোগ করা হলেও তারা এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেয় নেয়নি।

জেলা ত্রাণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, কাবিটা ও টিআর প্রকল্পের আওতায় ২০১৪-১৫ অর্থবছর থেকে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের কাজ শুরু হয়। ২০১৯-২০ অর্থবছরে এসে কাজ শেষ হয়। কাবিটার অধীনে ২ হাজার ৬৯৫টি এবং টিআর প্রকল্পের অধীন ৩ হাজার ৩৮৮টি সোলার হোম ও স্ট্রিট লাইট বা সড়কবাতি স্থাপন করা হয়। ফলে নড়াইল-কালিয়া, নড়াইল-মাইজপাড়া, নড়াইল-চন্ডীবরপুরসহ অনেক গ্রামীণ সড়ক, বাজার ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকা সৌর বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত হয়ে ওঠে।

চারদিন পর চালু বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিট চারদিন পর চালু বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটস্থানীয়রা জানান, এ বাতি গ্রামের হাট-বাজার পাহারা দিতে গুরুত্ব বহন করত। তবে এখন অধিকাংশ বাতি অকেজো হয়ে গেছে।নড়াইল সদর উপজেলার ফেদি বাজারের ধান ব্যবসায়ী তরিকুল ইসলাম বলেন, “আমাদের বাজার, স্কুল ও মাঠসহ বিভিন্ন এলাকায় কিছু সড়কবাতি লাগানো হয়েছিল। এর মধ্যে কিছু জ্বলে,আবার কিছু জ্বলে না।”

ফুলসর বাজারের কাপড় ব্যবসায়ী ইমামুল ইসলাম বলেন, “চার বছর আগে ফুলসর বাজারে স্থাপন করা একটি সড়কবাতি নষ্ট হলে নতুন আরেকটি স্থাপন করা হয়। সেটিও কয়েক মাস আগে নষ্ট হয়ে গেছে। সংশ্লিষ্ট অফিসে গেলে কর্মকর্তারা জানান, প্রকল্প শেষ হয়ে গেছে। এখন অন্ধকারে বাজার পাহারা দিতে গেলে ভয় লাগে।”

কালিয়া উপজেলার বাঁশগ্রাম ইউনিয়নের টাবরা সড়কে কিছু সড়কবাতি অকেজো হয়ে পড়েছে। ইউপি সদস্য ভবরঞ্জন রায় বলেন, “টাবরা সড়কে সাতটি সড়ক বাতির একটিও জ্বলে না। সোলার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান সাইফ পাওয়ারটেকের লোকজন সড়কবাতি মেরামত করেছিল। তারপর আর এসব বাতি দেখাশোনার কোনো ব্যবস্থা ছিল না। অনেক বাতি ওয়ারেন্টি শেষ হওয়ার আগেই নষ্ট হয়ে গেছে। সংশ্লিষ্ট অফিসে অভিযোগ দিয়েও কাজ হয়নি।”

আরও পড়ুন..  পীরগঞ্জে ঢাকাইয়াপট্টি মার্কেটে কসমেটিকস ও কাপড়ের দাম নির্ধারণে আইনের শাসন অমান্য,

লোহাগড়া উপজেলার মরিচপাশা গ্রামের আজম শেখ জানান, মরিচপাশা কবরস্থানে রাস্তার পাশে একটি বাতি স্থাপন করা হয়েছিল। কয়েক মাস পরই সেটি নষ্ট হয়ে যায়। বিভিন্ন সরকারি অফিসে যোগাযোগ করেও বাতি আর স্থাপন করা যায়নি।”একই এলাকার বাসিন্দা জয়নাল কাজী জানান, তাদের এলাকায় অধিকাংশ সড়কবাতি দুই-তিন বছর আগেই নষ্ট হয়ে গেছে। রাত হলেই এলাকায় ভুতূড়ে পরিবেশের সৃষ্টি হয়।”

সাইফ পাওয়ারটেক লিমিটেডের সিনিয়র ম্যানেজার সোয়েবুল ইসলাম বলেন, “সদর উপজেলায় আমাদের কোম্পানি সোলার সরবরাহ করেছে। তিন বছরের ওয়ারেন্টি থাকাকালে সড়কবাতি নষ্ট হয়ে গেলে নিয়ম অনুযায়ী আমরা মেরামতের ব্যবস্থা করেছি। এখন ওয়ারেন্টির সময় শেষ হয়ে যাওয়ায় আমাদের কিছু করণীয় নেই। নষ্ট হওয়া সোলার মেরামতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় থেকে যদি আমাদের দায়িত্ব দেয়, তাহলে আমরা মেরামতের ব্যবস্থা করব।”

নড়াইল জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মেহেদী হাসান বলেন, “জেলার বিভিন্ন সড়কে ১ হাজার ১২৭টি খুঁটিসহ স্ট্রিট লাইট স্থাপনের তথ্য আমাদের কাছে আছে। বাকিগুলোর কোনো তথ্য নেই। ২০১৯-২০ অর্থবছরে প্রকল্প শেষ হয়েছে। পরে এসব বাতি সংরক্ষণের জন্য কোনো বরাদ্দ আসেনি।” তিনি বলেন, “বরাদ্দ পেলে বাতিগুলো চালু করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

নড়াইলে পাঁচ বছর যেতে না যেতেই অকেজো সৌর বিদ্যুৎচালিত সড়কবাতি

আপডেট সময় : ০৪:১৮:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 

 

নড়াইলে বেহাল সৌর বিদ্যুৎচালিত সড়কবাতি নড়াইলের সড়কে থাকা একটি বিদ্যুৎচালিত সড়কবাতি। উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি জানান, নড়াইলের তিনটি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গ্রামীণ সড়কগুলোতে জনসাধারণের নির্বিঘ্নে চলাচলের জন্য স্থাপন করা হয় সৌর বিদ্যুৎচালিত সড়কবাতি। পাঁচ বছর যেতে না যেতেই অধিকাংশ বাতি অকেজো হয়ে পড়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয়দের। তারা জানান, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বারবার যোগাযোগ করা হলেও তারা এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেয় নেয়নি।

জেলা ত্রাণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, কাবিটা ও টিআর প্রকল্পের আওতায় ২০১৪-১৫ অর্থবছর থেকে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের কাজ শুরু হয়। ২০১৯-২০ অর্থবছরে এসে কাজ শেষ হয়। কাবিটার অধীনে ২ হাজার ৬৯৫টি এবং টিআর প্রকল্পের অধীন ৩ হাজার ৩৮৮টি সোলার হোম ও স্ট্রিট লাইট বা সড়কবাতি স্থাপন করা হয়। ফলে নড়াইল-কালিয়া, নড়াইল-মাইজপাড়া, নড়াইল-চন্ডীবরপুরসহ অনেক গ্রামীণ সড়ক, বাজার ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকা সৌর বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত হয়ে ওঠে।

চারদিন পর চালু বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিট চারদিন পর চালু বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটস্থানীয়রা জানান, এ বাতি গ্রামের হাট-বাজার পাহারা দিতে গুরুত্ব বহন করত। তবে এখন অধিকাংশ বাতি অকেজো হয়ে গেছে।নড়াইল সদর উপজেলার ফেদি বাজারের ধান ব্যবসায়ী তরিকুল ইসলাম বলেন, “আমাদের বাজার, স্কুল ও মাঠসহ বিভিন্ন এলাকায় কিছু সড়কবাতি লাগানো হয়েছিল। এর মধ্যে কিছু জ্বলে,আবার কিছু জ্বলে না।”

ফুলসর বাজারের কাপড় ব্যবসায়ী ইমামুল ইসলাম বলেন, “চার বছর আগে ফুলসর বাজারে স্থাপন করা একটি সড়কবাতি নষ্ট হলে নতুন আরেকটি স্থাপন করা হয়। সেটিও কয়েক মাস আগে নষ্ট হয়ে গেছে। সংশ্লিষ্ট অফিসে গেলে কর্মকর্তারা জানান, প্রকল্প শেষ হয়ে গেছে। এখন অন্ধকারে বাজার পাহারা দিতে গেলে ভয় লাগে।”

কালিয়া উপজেলার বাঁশগ্রাম ইউনিয়নের টাবরা সড়কে কিছু সড়কবাতি অকেজো হয়ে পড়েছে। ইউপি সদস্য ভবরঞ্জন রায় বলেন, “টাবরা সড়কে সাতটি সড়ক বাতির একটিও জ্বলে না। সোলার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান সাইফ পাওয়ারটেকের লোকজন সড়কবাতি মেরামত করেছিল। তারপর আর এসব বাতি দেখাশোনার কোনো ব্যবস্থা ছিল না। অনেক বাতি ওয়ারেন্টি শেষ হওয়ার আগেই নষ্ট হয়ে গেছে। সংশ্লিষ্ট অফিসে অভিযোগ দিয়েও কাজ হয়নি।”

আরও পড়ুন..  কলারোয়ায় নবাগত ইউএনও’র সাথে পুরোহিত-সেবায়েত ঐক্য ফ্রন্টের মতবিনিময়

লোহাগড়া উপজেলার মরিচপাশা গ্রামের আজম শেখ জানান, মরিচপাশা কবরস্থানে রাস্তার পাশে একটি বাতি স্থাপন করা হয়েছিল। কয়েক মাস পরই সেটি নষ্ট হয়ে যায়। বিভিন্ন সরকারি অফিসে যোগাযোগ করেও বাতি আর স্থাপন করা যায়নি।”একই এলাকার বাসিন্দা জয়নাল কাজী জানান, তাদের এলাকায় অধিকাংশ সড়কবাতি দুই-তিন বছর আগেই নষ্ট হয়ে গেছে। রাত হলেই এলাকায় ভুতূড়ে পরিবেশের সৃষ্টি হয়।”

সাইফ পাওয়ারটেক লিমিটেডের সিনিয়র ম্যানেজার সোয়েবুল ইসলাম বলেন, “সদর উপজেলায় আমাদের কোম্পানি সোলার সরবরাহ করেছে। তিন বছরের ওয়ারেন্টি থাকাকালে সড়কবাতি নষ্ট হয়ে গেলে নিয়ম অনুযায়ী আমরা মেরামতের ব্যবস্থা করেছি। এখন ওয়ারেন্টির সময় শেষ হয়ে যাওয়ায় আমাদের কিছু করণীয় নেই। নষ্ট হওয়া সোলার মেরামতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় থেকে যদি আমাদের দায়িত্ব দেয়, তাহলে আমরা মেরামতের ব্যবস্থা করব।”

নড়াইল জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মেহেদী হাসান বলেন, “জেলার বিভিন্ন সড়কে ১ হাজার ১২৭টি খুঁটিসহ স্ট্রিট লাইট স্থাপনের তথ্য আমাদের কাছে আছে। বাকিগুলোর কোনো তথ্য নেই। ২০১৯-২০ অর্থবছরে প্রকল্প শেষ হয়েছে। পরে এসব বাতি সংরক্ষণের জন্য কোনো বরাদ্দ আসেনি।” তিনি বলেন, “বরাদ্দ পেলে বাতিগুলো চালু করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি।