ঢাকা ০৫:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
উজানের ঢলে কুড়িগ্রামে বন্যার আশঙ্কা, বাড়ছে নদীভাঙন ঈদের ছুটি শেষেও খোলেনি পানিসারা ইউনিয়ন পরিষদের তালা ঝিকরগাছায় দ্রুততম সময়ে ধর্ষকদের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন ধর্ষণের শিকার বহুমাত্রিক প্রতিবন্ধী তরুণীর সন্তান প্রসব, থানায় মামলা, অভিযুক্ত পরিবারের অস্বীকার স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে ফরিদপুরে কাঁচা কলা দেওয়ার পর ঝিকরগাছায় দেওয়া হলো কাঁচা ডিম ; প্রধান শিক্ষক জানেননা ঠিকাদার কে বীরগঞ্জে প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ড কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন সদর উপজেলার এক তরুণীর রহস্যজনক মৃত্যু ম’রহে’দ উদ্ধার করেছে পুলিশ রাজারহাটে পঙ্গু রফিকুলের কুঁড়েঘরে-ইউএনও সহায়তায় মিলল ঘর-দোকানের আশ্বাস ৫.৩ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, কাঁপলো ঢাকাসহ পুরো দেশ আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি মিনিবার ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬
বিজ্ঞাপনঃ
আমাদের নিউজপোর্টালে আপনাকে স্বাগতম...

উজানের ঢলে কুড়িগ্রামে বন্যার আশঙ্কা, বাড়ছে নদীভাঙন

রতন রায় : কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৬:৪৯:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬
  • / ৯১ বার পড়া হয়েছে

রতন রায় : কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি

 

উজানের ঢল ও টানা ভারী বর্ষণের প্রভাবে কুড়িগ্রামের দুধকুমার, ধরলা, তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্রসহ জেলার প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। দুধকুমার নদীর পানি ইতোমধ্যে বিপৎসীমা অতিক্রম করায় জেলার নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে নদীভাঙন শুরু হওয়ায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নদীতীরবর্তী বাসিন্দারা।

 

সোমবার (২৯ জুন) দুপুর ১২টার তথ্য অনুযায়ী, ভুরুঙ্গামারীর পাটেশ্বরী পয়েন্টে দুধকুমার নদীর পানি বিপৎসীমার ২৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এদিকে কুড়িগ্রাম সদর পয়েন্টে ধরলা নদীর পানি বিপৎসীমার ৪৮ সেন্টিমিটার নিচে, চিলমারী পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্র নদীর পানি ৮৭ সেন্টিমিটার নিচে এবং কাউনিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার মাত্র ২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, সব নদীতেই পানি বাড়ার প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে।

 

পানি বৃদ্ধির কারণে জেলার বিভিন্ন উপজেলার নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পানিতে তলিয়ে গেছে পাট, ভুট্টা, চিনাবাদাম, মরিচ, পটলসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষেত। এতে কৃষকদের মধ্যে ফসলহানির আশঙ্কা বাড়ছে। অনেক এলাকায় বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়ায় পরিবার-পরিজন ও গবাদিপশু নিয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন বাসিন্দারা।

 

দুধকুমার নদীর তীরবর্তী চর লুচনী গ্রামের বাসিন্দারা জানান, বাড়িতে পানি উঠে যাওয়ায় চেয়ারের ওপর চুলা বসিয়ে রান্না করতে হচ্ছে। গবাদিপশু ও শিশুদের নিরাপদ স্থানে রাখা নিয়েও চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন তারা।

 

অন্যদিকে, চিলমারীর কয়েকটি চরাঞ্চলে নদীর তীব্র স্রোতে নতুন করে ভাঙন শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, গত এক সপ্তাহে একাধিক বসতভিটা ও কয়েক একর আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।

 

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, উজানে ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে জেলার নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় পানি আরও বাড়তে পারে। তাই নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুন..  দেশ ও গণতন্ত্রের স্বার্থে ভোটের দায়িত্ব

 

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে এবং পরিস্থিতির অবনতি হলে দ্রুত ত্রাণ ও সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

উজানের ঢলে কুড়িগ্রামে বন্যার আশঙ্কা, বাড়ছে নদীভাঙন

আপডেট সময় : ০৬:৪৯:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

রতন রায় : কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি

 

উজানের ঢল ও টানা ভারী বর্ষণের প্রভাবে কুড়িগ্রামের দুধকুমার, ধরলা, তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্রসহ জেলার প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। দুধকুমার নদীর পানি ইতোমধ্যে বিপৎসীমা অতিক্রম করায় জেলার নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে নদীভাঙন শুরু হওয়ায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নদীতীরবর্তী বাসিন্দারা।

 

সোমবার (২৯ জুন) দুপুর ১২টার তথ্য অনুযায়ী, ভুরুঙ্গামারীর পাটেশ্বরী পয়েন্টে দুধকুমার নদীর পানি বিপৎসীমার ২৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এদিকে কুড়িগ্রাম সদর পয়েন্টে ধরলা নদীর পানি বিপৎসীমার ৪৮ সেন্টিমিটার নিচে, চিলমারী পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্র নদীর পানি ৮৭ সেন্টিমিটার নিচে এবং কাউনিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার মাত্র ২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, সব নদীতেই পানি বাড়ার প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে।

 

পানি বৃদ্ধির কারণে জেলার বিভিন্ন উপজেলার নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পানিতে তলিয়ে গেছে পাট, ভুট্টা, চিনাবাদাম, মরিচ, পটলসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষেত। এতে কৃষকদের মধ্যে ফসলহানির আশঙ্কা বাড়ছে। অনেক এলাকায় বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়ায় পরিবার-পরিজন ও গবাদিপশু নিয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন বাসিন্দারা।

 

দুধকুমার নদীর তীরবর্তী চর লুচনী গ্রামের বাসিন্দারা জানান, বাড়িতে পানি উঠে যাওয়ায় চেয়ারের ওপর চুলা বসিয়ে রান্না করতে হচ্ছে। গবাদিপশু ও শিশুদের নিরাপদ স্থানে রাখা নিয়েও চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন তারা।

 

অন্যদিকে, চিলমারীর কয়েকটি চরাঞ্চলে নদীর তীব্র স্রোতে নতুন করে ভাঙন শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, গত এক সপ্তাহে একাধিক বসতভিটা ও কয়েক একর আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।

 

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, উজানে ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে জেলার নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় পানি আরও বাড়তে পারে। তাই নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুন..  নাভারণের এক’শ বছরের ঐতিহ্যবাহী পশুহাট চালুর প্রস্তুতি

 

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে এবং পরিস্থিতির অবনতি হলে দ্রুত ত্রাণ ও সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।